নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অটোরিকশা চালক হোসেন আহমেদ ওরফে হেঞ্জু মিয়া (৪০)-কে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিন দিন পার হলেও এখনো রহস্যের জট খুলতে পারেনি পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় গত সোমবার (৯ মার্চ) রাতে নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তার বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই দিন বিকেল সোয়া ৩টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গণিপুর খাল থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় গলাকাটা একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত হেঞ্জু মিয়া নোয়াখালী সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খলিশালটা গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেঞ্জু মিয়া পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন। তিনি বেগমগঞ্জের চৌমুহনী কলেজ রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ৩ মার্চ বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর পরিবার ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।
নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর সোমবার দুপুরে বেগমগঞ্জ স্টেডিয়াম সংলগ্ন গণিপুর খালে একটি সন্দেহজনক বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ সময় ধরে বস্তাটি একই জায়গায় পড়ে থাকায় তাদের সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাটি উদ্ধার করে খুলে দেখে ভেতরে এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মরদেহটির হাত-পা প্লাস্টিক দিয়ে শক্তভাবে বাঁধা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ২ থেকে ৩ দিন আগে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্য কোথাও তাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে খালে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে হত্যার আলামত গোপন রাখা যায়। তবে স্থানীয়দের অনেকের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার দিন রাতেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামছুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ জোরালোভাবে কাজ করছে। মরদেহ উদ্ধারের দিনই নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

0 Comments