নোয়াখালীতে মাদরাসায় ঘুমের মধ্যে ছাত্রকে জবাই করে হত্যা

 

টুপি পরা নিয়ে বিরোধের জেরে সহপাঠীর হাতে প্রাণ গেল নাজিমের

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ঘুমন্ত অবস্থায় এক মাদরাসা ছাত্রকে জবাই করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাটরা এলাকার আল মাদরাসাতুল ইসলামিয়া মাখফুনুল উলুম মাদরাসার ছাত্রাবাসে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত ছাত্রের নাম মো. নাজিম উদ্দিন (১৩)। তিনি উপজেলার চাষীরহাট ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের ওবায়েদ উল্ল্যার ছেলে।
আটক অভিযুক্ত ছাত্রের নাম আবু ছায়েদ (১৬), ময়মনসিংহ জেলার টেঙ্গাপাড়া গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে।

সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবাসিক ওই মাদরাসায় নাজিম ২২ পারা এবং ছায়েদ ২৩ পারা পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন করেছে। প্রায় ১০–১৫ দিন আগে টুপি পরা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে শিক্ষকরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

তবে ঘটনাটির জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ছায়েদ সোনাইমুড়ী বাজার থেকে ৩০০ টাকায় একটি ধারালো ছুরি কেনে।
রোববার রাতে ১৪ জন ছাত্র ও একজন শিক্ষক মাদরাসার আবাসিক কক্ষে ঘুমিয়ে পড়লে রাত আড়াইটার দিকে ছায়েদ উঠে ঘুমন্ত নাজিমকে জবাই করে ফেলে।

নাজিমের গলা দিয়ে রক্ত পড়া ও গোঙরানির শব্দে অন্য ছাত্ররা জেগে ওঠে এবং ঘটনাস্থলে নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি দেখতে পায়।

পুলিশের বক্তব্য

সোনাইমুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন,

“খবর পেয়ে পুলিশ ভোররাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ অভিযুক্ত ছাত্রকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, টুপি পরা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।”

তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ সুরতহাল শেষে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments