আ.লীগ সরকারের মিথ্যা মামলায় ১১ বছর কারাভোগ যুবদল কর্মী মিজুর দাবি

 

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান ওরফে মিজু অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দায়ের করা একাধিক মিথ্যা মামলায় তাকে টানা ১১ বছর কারাভোগ করতে হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে জেলা শহর মাইজদীর ইউরো শপিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন তিনি। মিজানুর রহমান দাবি করেন, ছাত্রদলের রাজনীতি করার কারণে আওয়ামী লীগ আমলে বারবার তাকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়েছে।

“২২ বছর বয়সে চোখ বেঁধে তুলে নেয়”

লিখিত বক্তব্যে মিজু বলেন,

“২০১৪ সালে আমি যখন ২২ বছর বয়সী, তখন শুধু ছাত্রদল করার অপরাধে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আমাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। আট দিন আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের পর একাধিক মিথ্যা মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠানো হয়।”

তিনি আরও জানান, ওই সময় জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ নিষাদ সেলিম হত্যা মামলা, অস্ত্র মামলা ও পুলিশের সঙ্গে ‘ফাইট’ দেখিয়ে মোট পাঁচটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়।

“১১ বছরের বন্দি জীবন, বাবার মৃত্যু”

মিজু বলেন,

“আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের মধ্যে ১১ বছর আমি কারাগারে কাটিয়েছি। দীর্ঘ কারাবাসের কষ্টে আমার বাবা ২০২২ সালে স্ট্রোকে মারা যান।”

তিনি অভিযোগ করেন, এক সাজানো অস্ত্র মামলায় তদবিরের মাধ্যমে তাকে ১৭ বছরের সাজা দেওয়া হয় এবং টানা সাত বছর জেলে থাকতে হয়। “সাত বছরে বহুবার জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা মঞ্জুর করেনি,” দাবি করেন তিনি।

“বাবার মৃত্যুর পরও জামিন পাইনি”

মিজু আরও বলেন,

“২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি আমি জামিনে মুক্তি পাই। কিন্তু দুই মাসের মধ্যেই ষড়যন্ত্র করে আবার আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৩ সালের নির্বাচন ঘিরে তিনবার গ্রেপ্তার হয়েছি। বাবার মৃত্যুর পরও প্যারোলে জামিন দেওয়া হয়নি।”

 

তদন্ত ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান মিজু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

aaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaaa

Post a Comment

0 Comments