নোয়াখালীর হাতিয়ায় পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক


 শিরোনাম: নোয়াখালীর হাতিয়ায় পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী পলাতক

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে তাজ নাহার (৩২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী মো. মিলন (৩৮)-এর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্ত্রী মারা গেছে বুঝতে পেরে অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের আলআমিন গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

নিহত তাজ নাহার হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের আব্দুল জলিলের মেয়ে। তিনি তিন সন্তানের জননী ছিলেন। অপরদিকে অভিযুক্ত স্বামী মো. মিলন একই উপজেলার আলআমিন গ্রামের হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জেরে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে মিলন তার স্ত্রী তাজ নাহারকে একটি এসএস পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ডান হাতের কব্জি ভেঙে যায়।

মারধরের একপর্যায়ে সকাল ছয়টার দিকে তাজ নাহার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে সকাল নয়টার দিকে তাকে স্থানীয় আবু সাঈদ বাজারের এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি তাজ নাহারকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় স্ত্রী মারা যাওয়ার খবর শুনেই অভিযুক্ত স্বামী মিলন সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল চারটার দিকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে মোরশেদ বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মোরশেদ বাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. শহিদ উল্যাহ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহত নারীর মাথা, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া তার ডান হাতের কব্জি ভাঙা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বামীর মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের সদস্যদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post a Comment

0 Comments