Other / অন্যান্য
গুলিতে রিজভীর মাথার খুলি উড়ে যায়, মায়ের অগোচরে আন্দোলনে অংশ নিতেন তিনি
জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এক অদম্য সাহসের নাম ছিল মাহমুদুল হাসান রিজভী। নোয়াখালীর মাইজদী শহরে তার শোকাহত মা ও ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময়, তিনি জানালেন, রিজভী কীভাবে সাহসী হয়ে উঠেছিলেন এবং কিভাবে তার প্রাণ কাফনের কাপড় হয়ে উঠল। ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে রিজভী মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তার মায়ের কাছে এটি ছিল এক অবর্ণনীয় কষ্টের ঘটনা।
রিজভী নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের মৌলভী তোফাজ্জল হোসেনের বাড়ির জামাল উদ্দিনের ছেলে। ছোটকাল থেকেই তিনি ছিলেন পরোপকারী এবং পরিবারের সবার প্রিয়। তার মা ফরিদা ইয়াছমিন গৃহিনী, বাবা জামাল উদ্দিন এনজিও সংস্থার আশা ব্যাংকের ম্যানেজার। পরিবারে রিজভী ছিল সবার বড় এবং তাকে ঘিরে ছিল পরিবারের সকল স্বপ্ন। তার পড়াশোনার জন্য অভাবের মধ্যেও মা-বাবা সবসময় ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
রিজভী লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডের অষ্টম সেমিস্টার শেষ করেন এবং পরে ঢাকায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পাঠানো হয়। তিনি চেয়েছিলেন পড়ালেখা শেষ করে পরিবারের হাল ধরবেন। কিন্তু ঢাকায় পৌঁছানোর পর ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে তিনি অজান্তেই এর অংশ হয়ে যান।
রিজভীর মা ফরিদা ইয়াছমিন জানান, ১৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানার কাছে হাইওয়ে রোডে গুলিবিদ্ধ হয়ে রিজভীর মাথার খুলি উড়ে যায় এবং মগজ রাস্তায় পড়ে। পরে, রিজভী রাস্তায় ছটফট করতে থাকে এবং তাকে উত্তরা কিচিন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তার মা আরও জানান, "যখন ঢাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হয়, আমি ফোন করে রিজভীকে সাবধানে থাকতে বলতাম। সে আমাকে আশ্বস্ত করত যে, সে কোনো আন্দোলনে যাবে না। কিন্তু ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আমি জানতে পারি, সে আমাদের অগোচরে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছিল।"
রিজভীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে তার বন্ধুরা উত্তরা কিচিন হাসপাতালে নিয়ে যায়, তবে সেখানে কোনো চিকিৎসা পাওয়া যায়নি। এমনকি তার মরদেহ নোয়াখালীতে নিয়ে আসার সময়ও প্রশাসনের চাপের কারণে অনেকটা গোপনে তাকে সমাহিত করা হয়। তার মরদেহ হাতিয়ার নিজ বাড়িতে আনা সম্ভব হয়নি, তাই তাকে হরণী ইউনিয়নের পূর্ব মোহাম্মদপুর গ্রামের নানার বাড়ির কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
রিজভীর ছোট ভাই শাহরিয়ার হাসান রিমন বলেন, "দেশের স্বার্থে যদি কখনো প্রয়োজন হয়, আমিও আন্দোলনে যাবো। তবে আমাদের পরিবারের প্রত্যাশা, জুলাই-গণঅভ্যুত্থান যেন সফল হয়।"
এ ঘটনায় নিহতের মা উত্তরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, আসামিরা নানা উপায়ে পার পেয়ে যাচ্ছে এবং তিনি আল্লাহর কাছে তার ছেলের হত্যার বিচার চান। পরিবারের জন্য এটি ছিল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা, কারণ রিজভী জীবনের অধ্যায় শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেল।
0 Comments