মা-মেয়েকে গণধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা, প্রধান আসামির স্বজনদের অভিযোগ

 

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মা-মেয়েকে গণধর্ষণের অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ইব্রাহিম তোতার স্বজনেরা দাবি করেছেন, তাদের পরিবারের ওপর রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিতে তাকে আসামি করা হয়েছে এবং তার বাবার হত্যা মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

রোববার (২৭ অক্টোবর) সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এর আগে, গত সোমবার রাতে উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের দুর্গম চরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় চরএলাহী ইউনিয়নের চরবালুয়া গ্রামের মো. হারুন (৪০) ও মো. হাসান (৩৮) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার নারী (৩৫) চট্টগ্রামে কর্মরত তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজের বাড়িতে ডিভোর্সপ্রাপ্ত মেয়েকে (২০) নিয়ে বসবাস করতেন। তার এক দূর সম্পর্কের দেবর প্রায়ই তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন, যা স্থানীয় কিছু যুবকের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দেয়। গত রোববার রাত ১১টার দিকে ওই ৬ জন যুবক ভুক্তভোগীর বাড়িতে ঢুকে তার দেবরকে বেঁধে ফেলে এবং মা-মেয়েকে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যায়। 

ভুক্তভোগী নারী জানান, যুবকদের মধ্যে কয়েকজন তাকে বাড়ির পুকুর পাড়ে এবং বাকিরা তার মেয়েকে রান্নাঘরের পাশে নিয়ে যায়। সেখানে রাত তিনটা পর্যন্ত তারা পালাক্রমে মা-মেয়েকে ধর্ষণ করে। যাওয়ার সময় তারা টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে এবং কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার প্রধান আসামি ইব্রাহিম তোতা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় তিনি জড়িত নন। তার বাবা, সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মতিন তোতাকে বর্তমান চেয়ারম্যানের সমর্থকদের হাতে হত্যা করা হয়। এরপর থেকে প্রতিশোধমূলকভাবে তার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। 

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নিয়ে দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী মা-মেয়েকে চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments