বিএনপি নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ৫৮ দিন পর ছেলেকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নে মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ইব্রাহিম তোতার স্বজনেরা অভিযোগ করছেন, তার বাবা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন তোতাকে (৬৫) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ৫৮ দিনের মাথায় বাবার হত্যা মামলাকে ধামাচাপা দিতে এবং পূর্ব রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে তাকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, তোতা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চরএলাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক এ মামলার নেপথ্যে রয়েছেন। 

রোববার (২৭ অক্টোবর) সকালে নির্যাতনের শিকার এক নারী (৩৫) বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই নারী চরএলাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক চেয়ারম্যানের নিকটাত্মীয়।

 নির্যাতনের শিকার নারীর স্বামী চট্টগ্রামে গাড়ি চালান, এবং তিনি তার ডিভোর্সপ্রাপ্ত মেয়েকে নিয়ে নিজ বাড়িতে থাকতেন। তার দূর সম্পর্কের দেবর প্রায় তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন, যা স্থানীয় কিছু যুবকের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করে। গত রোববার রাত ১১টার দিকে ছয় যুবক তার বাড়িতে এসে দেবরকে (২১) বেঁধে ফেলে এবং মা-মেয়েকে বাইরে নিয়ে যায়। যুবকদের মধ্যে তিনজন ওই নারীকে বাড়ির পুকুর পাড়ে এবং অন্যরা মেয়েকে রান্নাঘরের পাশে নিয়ে যায়। সেখানে রাত তিনটা পর্যন্ত পালাক্রমে তাদের ধর্ষণ করা হয়। যাওয়ার সময় তারা ঘরের টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে এবং কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

মামলার প্রধান আসামি ইব্রাহিম তোতা এ অভিযোগ নাকচ করে দাবি করেন, তিনি এই ঘটনায় জড়িত নন। তিনি বলেন, ৫৮ দিন আগে তার বাবা ও বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন তোতাকে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার বাবার হত্যার পর থেকেই রাজ্জাক বাহিনী তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করছে। ধর্ষণ মামলার বাদী নারী চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং বাবার হত্যা মামলা থেকে নজর সরাতেই তার নাম ধর্ষণ মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং যদি দোষী প্রমাণিত হই, তবে সর্বোচ্চ শাস্তি মাথা পেতে নেব।”

Post a Comment

0 Comments