নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে বড় ধরনের টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ড্যানিডা প্রকল্পের অর্থায়নে কেনা প্রায় ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের অব্যবহৃত পাইপ ও নির্মাণসামগ্রী গোপন প্রক্রিয়ায় মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জনস্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলী আজগর নোয়াখালীতে এসে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
গুদামে পড়ে ছিল কোটি টাকার সরকারি সম্পদ
তথ্য অনুযায়ী, ড্যানিডা প্রকল্পের আওতায় কেনা বিভিন্ন মাপের পাইপ ও নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। গুরুত্বপূর্ণ এসব সরকারি মালামাল থাকা সত্ত্বেও নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নিলামে তোলা হয়।
সাজানো টেন্ডারের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, পুরো নিলাম প্রক্রিয়াটি ছিল গোপন ও পূর্বপরিকল্পিত, যাতে প্রকৃত ঠিকাদাররা অংশ নিতে না পারেন। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দপ্তরের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজসহ কয়েকজনের নামে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় নিলাম দেখিয়ে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
রাতের আঁধারে পাইপ সরানোর অভিযোগ
নিলামের পর সরকারি পাইপগুলো সুবর্ণচরের চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাতের আঁধারে অধিকাংশ মালামাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে বুধবার তদন্ত কমিটি নোয়াখালী সরকারি কলেজের সামনে অবস্থিত জনস্বাস্থ্য বিভাগের আঞ্চলিক পানি পরীক্ষাগারের গোডাউন পরিদর্শনে গিয়ে এখনও কিছু পাইপের অস্তিত্ব পায়।
প্রতিবাদে উত্তাল ঠিকাদাররা, অফিস ফাঁকা
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ঠিকাদার আবদুল মোতালেব আপেল-এর নেতৃত্বে বিএনপি-সমর্থিত ঠিকাদাররা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিস ছেড়ে চলে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা অফিসে ফেরেননি।
প্রকৃত বাজারমূল্য ছিল ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা
ঠিকাদারদের দাবি, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার এবং তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার পাইপসহ মোট ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট বিভিন্ন মাপের পাইপ শাহনাজের লাইসেন্সে নিলামে বিক্রি করা হয়। এসব পাইপের প্রকৃত বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা গোপন রেখে নামমাত্র দামে বিক্রি করে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর বক্তব্য
তদন্ত শুরু হওয়ার কারণ
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে ‘গোপন টেন্ডারে ৫ কোটির পাইপ ১৯ লাখে নিলেন আ’লীগ নেতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করে।

0 Comments