তিহ্যবাহী নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরীর ১৩০ বছরের ইতিহাস ও স্মৃতিচারণ নিয়ে রচিত গ্রন্থ “আমার স্মৃতিতে ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরী”-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান নোয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে গ্রন্থের লেখক মো: ফখরুল ইসলাম সূচনা বক্তব্যে উপস্থিত অতিথিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান।
ইতিহাসের অংশীদার হওয়ার এক স্মরণীয় আয়োজন
শীতের সকালে কষ্ট স্বীকার করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় মান্যবর সভাপতি ও সম্মানিত অতিথিবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখক বলেন, এই আয়োজন কেবল একটি বইয়ের প্রকাশনা নয়, বরং নোয়াখালীর দীর্ঘ শিক্ষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসের অংশীদার হওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
লেখালেখির শুরু ও লাইব্রেরীর ভূমিকা
বক্তব্যে মো: ফখরুল ইসলাম স্মরণ করেন ১৯৭৮ সালের কথা। সে সময় নোয়াখালী প্রেসক্লাবে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড হবিস ক্লাব-এর উদ্যোগে জাতীয় হবি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, তখন তিনি আজকের মতো লেখক-গবেষক ছিলেন না। লেখালেখির জগতে তাঁর প্রবেশের প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল ১৮৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরী, যাকে তিনি শিক্ষার এক আলোকবর্তিকা হিসেবে উল্লেখ করেন।
৫০টি গ্রন্থ রচনার পেছনে অনুপ্রেরণা
লেখক জানান, নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরীর সংস্পর্শেই তিনি আজ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এটি তাঁর ৪৫তম প্রকাশিত গ্রন্থ। তিনি বলেন, সৎ ও ন্যায়ভিত্তিক চিন্তা নিয়ে কাজ করলে আল্লাহ কখনো কাউকে বিফল করেন না—নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরী তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
জ্ঞানচর্চায় লাইব্রেরীর ঐতিহাসিক অবদান
নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরী যুগে যুগে অসংখ্য কবি, সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক, শিক্ষক ও প্রশাসক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বইপ্রেমীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান আজও অনস্বীকার্য বলে বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়।
নতুন ভবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
লাইব্রেরীর নতুন ভবন প্রসঙ্গে লেখক বলেন, নিজস্ব ভূমিতে দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ প্রশংসনীয় হলেও ভবনের কিছু বাণিজ্যিক ব্যবহারে লাইব্রেরীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে লিফট, এসি সংযোগ, আধুনিক ইন্টেরিয়র, বই সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও আধুনিক ফার্নিচার সংযোজন করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগ থেকে লাইব্রেরী পূর্ণোদ্যমে চালু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বর্তমানে লাইব্রেরীর দায়িত্বে থাকা ৭ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি আগামী এপ্রিল বা মে ২০২৬-এ নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করলে প্রশাসনিক জটিলতা দূর হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
লাইব্রেরীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান
বক্তব্যের শেষাংশে লেখক বলেন, তাঁর গ্রন্থে নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরীর ১৩০ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য আন্তরিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি সকলকে লাইব্রেরীর সদস্য হওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রতিষ্ঠানটিকে দলমতের ঊর্ধ্বে ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার অনুরোধ করেন।
অনুষ্ঠান সফল করতে নীরবে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানকারী ব্যক্তিদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষভাবে তিনি সাবেক জেলা প্রশাসক ইশতিয়াক আহমেদ, আজীবন সদস্য আজিজুল হক চৌধুরী, প্রবাসী মো: ফারুক খোকনসহ অন্যান্য গুণীজনের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
সবশেষে তিনি উপস্থিত সকলের সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত কামনা করেন।
0 Comments