নোয়াখালীতে বিএনপির জন-জিজ্ঞাসা সভা: নির্বাচন, গণতন্ত্র ও জনগণের প্রত্যাশা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নির্বাচনব্যবস্থা, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার নিয়ে তর্ক-বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে নোয়াখালীতে ব্যতিক্রমধর্মী এক জন-জিজ্ঞাসা ও আলাপ বিষয়ক আলোচনা সভা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ঘোষিত ৮ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের সরাসরি মতামত জানার লক্ষ্যে এই সভাকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল—নির্বাচন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও গণতন্ত্র বিষয়ে জনগণের প্রশ্ন শোনা এবং সেসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া।

নেতৃত্ব ও আয়োজন

অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ। সভা সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মজিবুল হক রনি।

প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার, এডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, ইকবাল বাহার আজাদ, এডভোকেট মাহমুদ হাসান শাকিল এবং মাওলানা শহিদুল ইসলাম। আলোচনায় শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সভাটিকে বহুমাত্রিক করে তোলে।

৮ দফা পরিকল্পনা: কী বলছে বিএনপি

বক্তারা জানান, বিএনপির ঘোষিত ৮ দফা পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো—
দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণ।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, “গণতন্ত্র কেবল একটি শব্দ নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভোটাধিকার ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন।” তিনি দাবি করেন, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা টেকসই হতে পারে না।

বিশেষ অতিথি হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, বিএনপির ৮ দফা কোনো দলীয় স্লোগান নয়; বরং এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা ও প্রত্যাশা থেকে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “জনগণের মতামত নিয়েই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”

জনগণের প্রশ্ন, সরাসরি উত্তর

সভাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল জন-জিজ্ঞাসা পর্ব। উপস্থিত সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা, প্রশাসনের ভূমিকা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইনের শাসন নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তোলেন।

প্যানেল আলোচকরা এসব প্রশ্নের জবাবে বলেন, একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সংস্কার ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা দুটোই জরুরি। তারা বলেন, জনগণকে সচেতন ও সংগঠিত না করা গেলে গণতন্ত্র টেকসই হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের জন-জিজ্ঞাসা সভা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন বার্তা বহন করে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন সরাসরি শোনার মধ্য দিয়ে বিএনপি মাঠপর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। একই সঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা বোঝার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও এই সভাকে দেখা হচ্ছে।

উপসংহার

নোয়াখালীতে অনুষ্ঠিত এই জন-জিজ্ঞাসা ও আলোচনা সভা কেবল একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি নির্বাচন, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার নিয়ে জনগণের ভাবনার প্রতিফলন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এমন উদ্যোগ রাজনৈতিক সংলাপকে আরও গতিশীল করবে কি না—তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বাস্তবায়নের ওপর।

Post a Comment

0 Comments