নোয়াখালীর সদর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর ওয়ারিশি সম্পত্তি দখল করে বিএনপির একটি ওয়ার্ড কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে দলটির এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তি হলেন আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৫০)। তিনি অশ্বদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে পরিচিত। গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডাক্তারহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জিফাহ কাউসার ইবনে জায়েদ ও তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাদের প্রায় ৩০০ বছর পুরোনো ওয়ারিশি সম্পত্তির ওপর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিএনপির কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, আব্দুল্লাহ আল ফারুকের নেতৃত্বে একদল লোক এসে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘প্রিন্স কোকারিজ’-এর সামনে জোরপূর্বক একটি ঘর নির্মাণ করে এবং সেটিকে বিএনপির অফিস হিসেবে ঘোষণা দেয়।
জিফাহ কাউসার ইবনে জায়েদ আরও বলেন, নির্মিত ঘরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি সংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দখল পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কোনো ধরনের অনুমতি কিংবা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি দখল করা হয়েছে বলে দাবি করে তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার কামনা করেন।
এ বিষয়ে কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা সেলিম বলেন, ব্যবসায়ীর জায়গা দখলের অভিযোগটি সত্য। খবর পেয়ে তারা সরেজমিন লোক পাঠালেও অভিযুক্ত ব্যক্তি কারও কথা শোনেননি। তিনি আরও বলেন, ভোটের সময় সামনে রেখে এমন কর্মকাণ্ড কেন করা হচ্ছে, তা নিয়ে দলীয় পর্যায়েও প্রশ্ন উঠেছে। তার ভাষ্যমতে, আব্দুল্লাহ আল ফারুক দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর হঠাৎ দেশে ফিরে এসে সক্রিয় হন। আগে দলীয় কর্মসূচি এড়িয়ে চললেও বর্তমানে তিনি বিএনপির একজন ‘হাইলাইট’ নেতায় পরিণত হয়েছেন। এ কারণে স্থানীয়ভাবে তাকে ‘হাইব্রিড নেতা’ বলেও আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অশ্বদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ওই জায়গাটি তার নিজস্ব খরিদা সম্পত্তি। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাজ করার সময় সামনের কিছু অংশ ড্রেনের জন্য নেওয়া হয়েছে, অবশিষ্ট জমিতেই তিনি ঘর নির্মাণ করছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, ঘটনাটি তার জানা ছিল না। তবে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

0 Comments