সুবর্ণচরে উপকূলীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় জলবায়ু ন্যায্যতা ও উচ্চ শিক্ষার প্রসারে আলোচনা সভা, গুণী শিক্ষক সম্মাননা ও মেধাবৃত্তি প্রদান

 

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষায় জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ ও উচ্চ শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা, গুণী শিক্ষক সম্মাননা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশন, স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবেশবাদী সংগঠন, চরবাটা সওদাগর হাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই আয়োজন করে।

শনিবার বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। রাতের "জলবায়ু সংকটাপন্ন এলাকায় বৈষম্যহীন শিক্ষার অধিকার সুরক্ষায় করণীয়" শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ডেপুটি এসাইনমেন্ট এডিটর তারেক মোহাম্মদ মোরতাজা হাসান। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বৈষমাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সংগঠক আবদুল হান্নান মাসুদ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, "জলবায়ু সংকটাপন্ন এলাকায় শিক্ষার অধিকার আজও অনেক মানুষের নাগালের বাইরে। শহর ও গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈষম্য প্রকট। সংবিধানে সবার সমান শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতের কথা বলা হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।" 

আবদুল হান্নান মাসুদ বলেন, "পূর্বের শাসন আমলে শিক্ষা খাতে দুর্নীতির মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। এখন দুর্নীতি হ্রাসের মাধ্যমে সব খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।"

সভাপতি তারেক মোহাম্মদ মোরতাজা হাসান বলেন, "চর থেকে শহর, সর্বত্রই বৈষম্য দূর করতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"

আলোচনা শেষে ১০ জন গুণী শিক্ষক, চন্দ্রকলির দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননা প্রদান এবং ২০২৪ সালে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও, ৬ জন শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি এবং প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

আয়োজনে বিকেলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে "এই সংসদ পরিবেশের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য সার্বজনীন বিচার ব্যবস্থার সমর্থন করে" শীর্ষক সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ শাখাওয়াত উল্লাহ জানান, ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা সুনিশ্চিতকরণ, জলবায়ু সংকট নিরসন, এসডিজি বাস্তবায়ন, বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

Post a Comment

0 Comments