খাল দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব, যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা


নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে খাল দখল করে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে এক যুবদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। নিহত যুবদল নেতার নাম মো. ইউনুস আলী ওরফে এরশাদ (৪০)। তিনি চরফকিরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী এবং একই ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। পেশায় নৌকার মাঝি, এরশাদ তিন সন্তানের জনক ছিলেন।  

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নেওয়ার পথে ফেনীতে তার মৃত্যু হয়। এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চরফকিরা ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রাম ঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।  

ঘটনার বিবরণ:

নিহতের ভগ্নিপতি মো. জয়নাল আবেদীন আলমগীর অভিযোগ করেন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি খাল ইজারা নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর, স্থানীয় বিএনপি নেতারা ইজারাটি বাতিল দাবি করে খাল দখল করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। বুধবার বিকেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহজাহান ও বাবরের নির্দেশে সমীর খান, জাবেদ ও ওবায়দুল্লাহসহ ১০-১৫ জন জাল কেটে খাল দখল করেন।  

বৃহস্পতিবার সকালে, নিহত এরশাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা খাল দখলের বিষয়ে জানতে গেলে, স্থানীয় নেজাম (৪২), তার ছেলে সুজন (২৫), তারেক (২৬) এবং তাদের সহযোগীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এরশাদকে তলপেটে ছুরিকাঘাত করা হয়, যার ফলে তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে যায়। আরও চারজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়।  

পুলিশের বক্তব্য: 

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান, এ ঘটনায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

বিএনপি নেতার দাবি:  

চরফকিরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী বিপ্লব বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে খাল দখল এবং জমি নিয়ে বিরোধ জড়িত ছিল। তবে মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহজাহান এবং তার ভাই বাবর তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।  

নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, খাল দখলের এই বিরোধ থেকেই এরশাদকে হত্যার ঘটনা ঘটে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের মন্তব্য পেতে তাদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।  

Post a Comment

0 Comments