স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিদের অভিযোগ, নোয়াখালী সদর উপজেলার দক্ষিণ সালেহপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ সম্পত্তি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নিয়ে শাহরিয়ার মাহমুদের বিরুদ্ধে বিরোধ চলে আসছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে সালেহপুর মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, দক্ষিণ সালেহপুর গ্রামে অবস্থিত তিনটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন কোটি কোটি টাকা মূল্যের ওয়াকফ সম্পত্তির একটি অংশ শাহরিয়ার মাহমুদ বেআইনিভাবে দখলে রেখেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো— দক্ষিণ সালেহপুর জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৫০৩), দারুল উলুম হামিদিয়া মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৭৫১) এবং দক্ষিণ সালেহপুর হামিদুলিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৪২৯)।
স্থানীয়দের দাবি, আদালতের স্থগিতাদেশ এবং ওয়াকফ প্রশাসনের বিভিন্ন নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে ঘরবাড়ি, টয়লেটসহ বিভিন্ন স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের আরও অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এবং একটি অকার্যকর কমিটির নাম ব্যবহার করে ভুয়া রশিদ বইয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, এসব বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে তদন্তও হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তকারী দল সরেজমিন পরিদর্শন করে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য পেয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ঢাকায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় শাহরিয়ার মাহমুদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর দক্ষিণ সালেহপুরের দীর্ঘদিনের ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও অভিযোগগুলো নতুন করে সামনে এসেছে। তাদের দাবি, শাহরিয়ার মাহমুদ কারাগারে থাকা অবস্থাতেই তার বিরুদ্ধে ওঠা জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও মুসল্লিদের পক্ষ থেকে ওয়াকফ সম্পত্তির দখলমুক্তি, বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারের উদ্যোগ এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও আইনি দায় নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ সালেহপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আবুল খায়ের, শাহাদাত হোসেন শিপন, মো. মানিক, মো. রুহুল আমিন, রায়হান খান নান্টুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মসজিদের মুসল্লি এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

0 Comments