নোয়াখালীর জাহানাবাদে পুলিশ পরিচয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতি: ৮ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট

নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামে পুলিশ পরিচয়ে গভীর রাতে সংঘটিত হয়েছে এক দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা। এ ঘটনায় নগদ অর্থ এবং ৮ ভরি স্বর্ণালংকারসহ আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, ডাকাতরা সরকারি প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এ লুটপাট চালায়, যা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী উম্মে হানী বেগম বাদী হয়ে সুধারাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার দুই দিন পার হওয়ার পরও পুলিশ এখনো লুট হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার বা ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়নি।

ঘটনার বিবরণ

ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে গভীর রাতে। প্রথমবার পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন বাড়িতে আসে রাত প্রায় ১২টার দিকে। তারা কিছুক্ষণের জন্য অবস্থান করলেও পরে চলে যায়। এরপর রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে, আবার কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। তখন বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

ডাকাতরা নারী ও শিশুদের জিম্মি করে ভয় দেখায়। তারা একটি স্টিলের আলমারি ভেঙে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় পরিবারটি চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়ে।

ভুক্তভোগী পরিবার আরও জানিয়েছে, তারা ডাকাতদের একজনকে চিনতে পেরেছেন। তাদের ধারণা, পূর্বশত্রুতার জের ধরে আবুল বাশার ও তার সহযোগীরা এই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং তারা যেকোনো সময় পুনরায় হামলার আশঙ্কা করছেন।

পুলিশের অবস্থান

সুধারাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্রীবাস চন্দ্র দাস ঘটনাকে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,

“আমরা একটি অপহরণ মামলার আসামি সাকিবকে খুঁজতে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন বাদী এবং তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আমরা আসামিকে খুঁজে পাইনি এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে চলে আসি। পরে গভীর রাতে ওই বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণ ও অন্যান্য মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা আমাদের জানিয়েছে। তারা একজনকে চিনতে পেরেছে বলে অভিযোগ করেছে। আমরা তাদের থানায় মামলা করার জন্য বলেছি।”

পুলিশের এই বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি ছিল নির্দিষ্ট একটি মামলার অনুসন্ধানের জন্য, কিন্তু গভীর রাতে পুনরায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

এলাকায় আতঙ্ক

ঘটনার পর জাহানাবাদ ও আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের এলাকায় প্রথমবারের মতো ঘটছে। যারা সরকারি পরিচয়ে এমন দুঃসাহসিক ডাকাতি চালাচ্ছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার না হলে সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করতে পারবে না।”

স্থানীয়দের মতে, গভীর রাতে পুলিশের পরিচয়ে ঢুকে নারীদের ও শিশুদের ভয় দেখানো এবং স্বর্ণালংকারসহ লাখ লাখ টাকার মালামাল লুট করার ঘটনা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা এবং নিরাপত্তাহীনতার ভীতি বৃদ্ধি করেছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের করণীয়

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,

“এ ধরনের ঘটনা দেখাচ্ছে যে, গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের পরিচয় বা সামরিক উপস্থিতিকে অপ্রশ্নকৃতভাবে বিশ্বাস করছেন। তাই নিরাপত্তা বাহিনীকে নিশ্চিত করতে হবে যে, এমন পরিচয় ভুয়া নয়। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা অতীব জরুরি।”

ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয়রা পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাদের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যদি দোষীদের শাস্তি না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও হামলা ঘটতে পারে।

নোয়াখালীর এই দুঃসাহসিক ডাকাতি পুরো উপজেলায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় নেতারা একযোগে দাবি করছেন, পুলিশকে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করতে হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

Post a Comment

0 Comments