সড়ক দুর্ঘটনা, জলাবদ্ধতা ও পথচারীদের দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
নোয়াখালী শহরের মাইজদী বাজার থেকে পুরাতন কলেজ রোডের পশ্চিম পাশের কালভার্ট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে টেকসই ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন সচেতন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সড়ক প্রশস্তকরণ, পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এই সড়কের সংশ্লিষ্ট অংশে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত ড্রেন ও ফুটপাত না থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শিশু ও প্রবীণদের জন্য পরিস্থিতি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পাশাপাশি আশপাশের বাসাবাড়ির ব্যবহৃত পানি সড়কে এসে পড়ায় দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
২০২১ সালে প্রক্রিয়া শুরু, অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ অংশ
এলাকাবাসীর দাবি, মাইজদী বাজার থেকে বসুরহাট পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২১ সাল থেকে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমির মূল্য নির্ধারণ, একনেকে বাজেট অনুমোদন, টেন্ডার গ্রহণ ও কার্যাদেশসহ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে তারা জানান।
তবে তাদের অভিযোগ, সড়কের অন্যান্য অংশে উন্নয়নকাজ এগিয়ে গেলেও নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদী বাজার থেকে পুরাতন কলেজের পশ্চিম পাশের কালভার্ট পর্যন্ত অংশে ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণের কাজ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
বক্তারা বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। আশপাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকায় এলাকাটি অত্যন্ত ব্যস্ত। তাই অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় পথচারীদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।
ফুটপাত না থাকায় মূল সড়কেই পথচারী
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, সড়কের পাশে পথচারীদের হাঁটার জন্য যে অংশটি ছিল, পিচঢালাইয়ের পর সেটি মূল সড়কের সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে। ফলে পৃথক ফুটপাত না থাকায় মানুষকে যানবাহনের চলাচলের অংশ দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে।
বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময় শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি বাড়ে। শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রেও ব্যস্ত সড়ক পারাপার ও চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
তাদের মতে, সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি পথচারীদের জন্য নির্দিষ্ট হাঁটার পথ নিশ্চিত করা না হলে নিরাপদ সড়কব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ হবে না।
ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশে পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যানবাহন ও পথচারী চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া আশপাশের ভবন ও বাসাবাড়ির ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় তা সড়কের ওপর এসে পড়ে বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে দুর্গন্ধ, নোংরা পানি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসী টেকসই ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি ড্রেনের পানি নিষ্কাশনের কার্যকর সংযোগ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখার দাবি জানান।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ
মানববন্ধনে সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন বক্তারা। তাদের দাবি, পৃথক ফুটপাত না থাকায় পথচারীদের মূল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। ব্যস্ত সড়কে যানবাহনের চাপের সঙ্গে এই পরিস্থিতি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইতোমধ্যে এ এলাকায় পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তাই দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
সওজের বক্তব্য
এ বিষয়ে মোঃ ফরিদ উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী, সওজ সড়ক বিভাগ, নোয়াখালী বলেন, “মাইজদী বাজার থেকে পুরাতন কলেজ রোডের কালভার্ট পর্যন্ত সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পথচারীদের দুর্ভোগের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। সড়কে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সড়ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু যানবাহন চলাচল নয়, পথচারীদের নিরাপত্তা ও সড়কের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দিতে হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”
দ্রুত কাজ শুরুর দাবি
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের কাছে অসম্পূর্ণ অংশের ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করার দাবি জানান।
তাদের দাবি, প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে বাজেট, ভূমি অধিগ্রহণ, টেন্ডার ও কার্যাদেশের মতো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকলে অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়নে আর বিলম্ব করা উচিত নয়।
এলাকাবাসী বলেন, মাইজদী বাজার থেকে পুরাতন কলেজের পশ্চিম পাশের কালভার্ট পর্যন্ত অংশে পরিকল্পিত ড্রেন, প্রশস্ত ও টেকসই ফুটপাত এবং প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে সচেতন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
আয়োজনে: সচেতন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থী বৃন্দ।

0 Comments