বাল্যবিবাহ, মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে নোয়াখালীতে সচেতনতামূলক কর্মশালা

কিশোরীদের মধ্যে চেক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ২০২২ সাল থেকে প্রতি মাসে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিআরডিবি

বাল্যবিবাহ, মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং কিশোরীদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নোয়াখালীতে অভিভাবক ও কিশোরী শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নোয়াখালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) নোয়াখালী সদর কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালা শেষে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কিশোরীদের মধ্যে চেক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্পের (ইরেসপো) দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কিশোরীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

নোয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোমায়রা ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শান্তনু কুমার দাশ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিআরডিবি, নোয়াখালীর উপপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন এবং নোয়াখালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক।

এ সময় বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন সোহাগসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব

বাল্যবিবাহ কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ জীবনকে নানা ঝুঁকির মুখে ফেলে। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে অনেক কিশোরীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কিশোরীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় কর্মশালায়।

কিশোরীদের ভবিষ্যৎ গঠনে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকেরা সচেতন হলে সন্তানদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত বিকাশের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বাড়ে। পাশাপাশি কিশোরীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা গেলে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতা

কর্মশালায় মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং ইভটিজিং প্রতিরোধের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, ইভটিজিং কিশোরীদের স্বাভাবিক চলাফেরা, শিক্ষা ও মানসিক স্বস্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

এসব সমস্যা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা জরুরি। কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রয়োজনে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা এ ধরনের কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

প্রতি মাসে ১০০ কিশোরীকে প্রশিক্ষণ

বিআরডিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে এ প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে ১০০ জন কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের ভবিষ্যৎ আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও সঞ্চয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রত্যেকের জন্য ভাতা ও সঞ্চয় বাবদ মোট ৬০০ টাকা জমা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় কিশোরীদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী কিশোরীদের মধ্যে চেক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কিশোরী শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা।

বিআরডিবির এ কার্যক্রমের মাধ্যমে কিশোরীদের সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আর্থিক স্বাবলম্বিতার পথ তৈরি করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

১৩ অক্টোবর ২০২৬ | নোয়াখালী

Post a Comment

0 Comments